• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

সেই ফরিদা পেল বিধবা ভাতা

সিসি নিউজ ।। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কুকুরকে খাওয়ানো ফরিদা বেওয়া পেলেন বিধবা ভাতা। সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ তাঁর জন্য বিধবা ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নেয়। গত ২ জানুয়ারী জাতীয় সমাজ সেবা দিবসে ফরিদা বেওয়ার হাতে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখছেদুল মোমিন তুলে দেন বিধবা ভাতা পরিশোধের বইটি।

সূত্র মতে, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের হাতিখানা এলাকায় জরাজীর্ণ একটি ঝুঁপড়িতে থাকেন ষাটোর্দ্ধ ফরিদা বেওয়া। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের একটি হোটেলে রান্নার কাজ করেন। প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী ইসমাইল হোসেন মারা গেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর দুই ছেলের মধ্যে একটি ছেলে মারা যায় আরেকটি যায় হারিয়ে। সন্তান হারা ফরিদা বেওয়া তখন থেকে কুকুর-বিড়ালদের নিয়ে গড়ে তোলেন এক অকৃত্রিম ভালোবাসার পরিবার।

সৈয়দপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনিস আনসারী জানান, ফরিদা বেওয়া দীর্ঘ কয়েক বছর থেকে তাঁর মজুরীর টাকা দিয়ে খাবার রান্না করে প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০টি কুকুর-বিড়ালকে খাবার দিয়ে আসছেন। এই পশু প্রেমের কারনে পাড়ার মানুষ তাকে বিলাই দাদী (বিড়াল দাদী) বলে ডাকে।

তিনি জানান, প্রতি রাতে বিমানবন্দর সড়কে দেখা মিলবে ফরিদা বেওয়ার। চারপাশে যাকে ঘিরে আছে কুকুরের দল। দুর থেকে তাকে দেখে কিংবা কণ্ঠ শুনে ছুটে আসে অন্য কুকুরগুলোও। হন্যে হয়ে ছুটে আসা কুকুরগুলো নতজানু হয়ে বসে পড়ে তাঁর সামনে। একে একে খাবার খাইয়ে কুকুরগুলোর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন তিনি। এক অপূর্ব ভালোবাসার মেলবন্ধন দেখা যায় সেই মা আর কুকুরের মাঝে। রান্না করে আনা খাবারগুলো তিনি কুকুরদের সামনে কাগজে রেখে খাওয়াচ্ছেন। রাত ১১টার পর তাঁকে প্রতিদিন এভাবে দেখা যায়।

ফরিদা বেওয়ার সাথে হোটেলে কাজ করা যুবক শাহিন হোসেন জানান, কয়েক মাস আগে প্রতিদিনের মত রান্না করে খাবার নিয়ে রাতে বেরিয়েছিলেন ফরিদা বেওয়া। বাস টার্মিনালে দল বেধে থাকা কুকুরদের খাওয়াচ্ছিলেন তিনি। তখন ৭টি কুকুরের মধ্যে উপস্থিত ছিলো ৬টি কুকুর। পরের দিন আবার গেলেন খাবার নিয়ে কিন্তু সেই একটি কুকুর কম। খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, চলন্ত ট্রাকের নিচে পড়ে একটি কুকুর মারা গিয়েছে। ফরিদা সেখানেই কান্নাকাটি করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছিলেন। থানা পর্যন্ত গিয়েছিলেন সেই ট্রাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে।

হোটেল মালিক আশরাফ হোসেন জানান, বহু বছর থেকে সে আমার হোটেলে কাজ করে আসছে। সবজি কাটা, ডাল গুড়া করাসহ অন্যান্য কাজ করে দেন তিনি। প্রতিদিন তাঁকে ২৫০ টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে তরকারি ও চাল কিনে বাসায় রান্না করে রাতে বেরিয়ে পড়েন পথের কুকুরদের খাওয়াতে। তিনি কোন টাকা জমা রাখেন না। তাঁর ঝুপড়ি ঘরে ৪-৫টি বিড়াল সব সময় থাকে। তার নিজের কোন বাড়ি নেই। কোন বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা পান না তিনি। এই মজুরীর টাকা দিয়েই তিনি এই পথ কুকুরদের আগলে রেখেছেন।

কথা হয় ফরিদা বেওয়ার সাথে। তিনি জানান, আপন বলতে বর্তমানে তাঁর কেউ নেই এখন। এই কুকুর- বিড়ালদেরকে সাথে নিয়েই পার হয়ে যাচ্ছে বাকি দিনগুলো। এদের পেট ভরতে বেশির ভাগ সময় ব্যয় হয়। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সারাদেশের জারিকৃত বিধি-নিষেধে বেশিভাগ রেস্তোরাঁ, বেকারি বন্ধ থাকায় খাবার পাচ্ছিল না এসব বেওয়ারিশ কুকুরগুলো।

অথচ এই কুকুরগুলোই উচ্ছিষ্ট খেয়ে শহরকে পরিষ্কার রাখে। তাই মানুষের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় প্রাণীকূল রক্ষা করাও জরুরি। এমন চিন্তা থেকেই তিনি প্রতিদিনি এসব কুকুরদের খাওয়াই আসছেন। তিনি আরও বলেন, এই পুশুদের পেট ভরলেই মন ভরে আমার।

সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে ফরিদা বেওয়ার এ দৃষ্টান্ত আমাদের চোখে পড়লে তাকে বিধবা ভাতা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করি। প্রাণীদের সেবায় যিনি সর্বদা নিয়োজিত, তাঁকে সরকারের এ ব্যবস্থাপনার আওতায় নিতে পেয়ে আমরা ধন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ